আমাদের দেশের এই রহস্যময় স্থানগুলির কাছে বারমুডা ট্রায়াঙ্গল একেবারে তুচ্ছ!

এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: মেক্সিকোর একটি দ্বীপের গাছে গাছে ফাঁসি দেওয়া অবস্থায় ঝুলছে শয়ে শয়ে পুতুল। বিশ্বজুড়ে এসব বিচিত্র ও রহস্যময় স্থানের নাম এবং গল্প শুনলেই গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে। এসব আলোচনা করতে করতে অজান্তেই মুখ দিয়ে বেরিয়ে পড়ে কবিগুরুর কটা কথা, “বিপুলা এই পৃথিবীর কতটুকুই জানি।”

বিশ্ব তো অনেক বড় স্থান। নিজের দেশ সম্পর্কেইবা কতটা জানি আমরা? বারমুডা ট্রায়াঙ্গল এলাকায় হাতে গোনা কয়েকটি জাহাজ, বিমান দুর্ঘটনাকে রহস্যের মশলা মাখিয়ে পরিবেশনের দৌলতে সেই সাধারণ জায়গাটি বিশ্বের রহস্যময় স্থানে পরিণত হয়েছে। হলিউডি ছবির দৌলতে মেক্সিকোর পুতুল দ্বীপও আজ রহস্যময় স্থানের মানচিত্রে বহাল তবিয়তে বিরাজ করছে। কিন্তু এর চেয়েও আশ্চর্য এবং রহস্যময় কাণ্ড যে আমাদের দেশে আছে তা হয়তো অনেকেই জানেন না। সে সব স্থানে গেলে বা সেখানকার গল্প শুনলে হয়তো যে কেউ বলে উঠতে পারেন, এমন ঘটনা ভারতবর্ষেই সম্ভব।

সেই প্রাচীন যুগ থেকে শুরু করে এখনও পর্যন্ত বিদেশিদের কাছে ভারত এক রহস্যময় দেশ। জাদুর দেশ। আর এই জাদুর টানেই লক্ষ লক্ষ পর্যটক প্রতি বছর ভারতে আসেন। বিজ্ঞানকে ব্যবহার করে তাকে অলৌকতার মোড়োকে পুড়ে অনেকেই বিশ্ববাসীকে তাক লাগিয়ে দেন বটে, কিন্তু কিছু আশ্চর্য ঘটনা সত্যি সত্যিই যে এদেশে ঘটে থাকে তা হয়তো অনেকেই এক কথায় স্বীকার করে নেবেন। কখনও তা হয় প্রকৃতির খেলা, কখন আবার তার কোনও ব্যাখ্যা মেলা ভার। আর সেই সব আশ্চর্য স্থানই পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। তালিকাটা বিরাট বড়। তাই একে একে সেই সব স্থানে ভবিষ্যতে যাওয়ার প্ল্যান করতে পারেন অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীরা।

​লে লাদাখের চৌম্বক পর্বত

প্রাকৃতি সৌন্দর্য্যের জন্য লে লাদাখেরর প্রতি পর্যটকদের আকর্ষণ বরাবরই বেশি। আর সেই আকর্ষণের অন্যতম সেখানকার চৌম্বক পর্বত। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় এগারো হাজার ফিট উঁচুতে রয়েছে এই পর্বত। এই স্থানে গাড়ি করে গেলে একটি নির্দিষ্ট স্থানের পর গাড়ি আপনা থেকেই পাহাড়ের উপরের দিকে আচমকা উঠতে থাকে। অজ্ঞাত ব্যক্তিরা ভয় পেয়ে যান। স্থানীয় প্রবাদ, অলৌকিক কারণে গাড়িগুলি নিজে থেকেই চলতে থাকে। আসলে নির্দিষ্ট এলাকার প্রাকৃতিক চৌম্বকত্বের শক্তি এতটাই বেশি থাকে যে তার আকর্ষণেই লোহার তৈরি গাড়িগুলি উপরের দিকে উঠতে থাকে। প্রকৃত কারণ জানলে বিজ্ঞান, না জানলেই অলৌলিক।

​লেপাক্ষীর ঝুলন্ত স্তম্ভ

ei samay

অন্ধ্রপ্রদেশের লেপাক্ষী এক ঐতিহ্যবাহী স্থান। এই প্রাচীন মন্দিরের স্থাপত্য ভাস্কর্য এবং চিত্র দেখে আজও পর্যটকরা অবাক হয়ে যান। এতবে তার থেকেও রহস্যময় এখানকার ভাসমান স্তম্ভটি। মন্দিরের সত্তরটি স্তম্ভ মাটি স্পর্শ করে না। যেন হাওয়ায় ভেসে আছে সেগুলি। অনেকেই একে অলৌকিক বলে দাবি করেন। আবার যুক্তিবাদীদের মতে মন্দিরের স্থাপত্যের এক অসাধারণ কৌশল এই ঝুলন্ত স্তম্ভগুলি।

​শিবপুর দরগার চমৎকারী পাথর

ei samay

পুণে-বেঙ্গালুরু হাইওয়ে থেকে প্রায় ১৮০ কিলোমিটার দূরে শিবপুর গ্রামে অবস্থিত হজরত কমর আলি দরবেশ বাবার দরগা। বলা হয় যে, প্রায় সাতশো বছর আগে সুফি দরবেশ হজরত কমর আলিকে এখানে কবর দেওয়া হয়েছিল। এই দরগার পরিসরে একটি প্রায় নব্বই কিলো ওজনের পাথর রয়েছে। জনশ্রুতি সুফি দরবেশের নাম নিয়ে মাত্র এগারো জন ভক্ত এই পাথরটিকে নিজেদের তর্জনীতে তুলতে পারেন। কিন্তু দরগার পরিসরের বাইরের নিয়ে গেলে এই পাথর সহজে তোলা যায় না। কিংবদন্তি, সুফি দরবেশের অভিশাপের ফলেই নাকি ওই পাথরটির এই হাল। বিশ্বাসে মিলায়ে বস্তু তর্কে বহুদূর।

লখনউয়ের রহস্যময় প্রাসাদ

ei samay

উত্তরপ্রদেশের রাজধানী লখনউয়ের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ বড়া ইমামবরা। এর পরতে পরতে লুকিয়ে রয়েছে শহরের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং রহস্যময় স্থাপত্যের নিদর্শন। এটি নির্মিত হয় নবাব আসাফ-উদ-দৌল্লার শাসনকালে। নবাবের প্রয়াণের পর এখানেই তাঁকে সমাধিস্থ করা হয়। বড়া ইমামবারার ঠিক পূর্ব দিকে রয়েছে শাহী বাউড়ি। সেই অষ্টাদশ শতকেই অট্টালিকা ঘেরা এই অদ্ভুত কূপের সঙ্গে ভূগর্ভস্থ নদীর জলের স্রোতের যোগাযোগ ছিল। তাই সারা বছর এখানে জল থাকত এই কূপে। কূপের গায়ে বাইরে থাকা আসা আগন্তুকদের ছবির প্রতিচ্ছবি দেখা যেত। এর দেওয়ালের গায়ে রয়েছে বিভিন্ন রকমের নকশা। যার ভিতর থেকে বাইরে থেকে আসা ব্যক্তিদের উপর নজর রাখা হত। অনেকটা যেন সে যুগের সিসিটিভ ক্যামেরা। তবে বড়া ইমামবারার সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্থান হল ভুল ভুলাইয়া। এখানে ১০২৪টি প্রবেশ পথ রয়েছে। কিন্তু বাইরে বেরোনোর পথ রয়েছে মাত্র দুটি। এই গোলকধাঁধার রহস্য উন্মোচন করা আজও সম্ভব হয়নি।

এখানকার আরও এক রহস্যের সমাধান সম্ভব হয়নি। সেটি হল আসাফি মসজিদের স্থাপত্য। আসাফি মসজিদেই রয়েছে নবাব আসাফ উদ দৌল্লার সমাধি। প্রায় তিনতলা সমান লম্বা এই স্মৃতি স্তম্ভের মাঝে অবস্থিত হলঘরটি কোনও পিলার বা বিম ছাড়াই বছরের পর বছর দাঁড়িয়ে আছে। দেখলে মনে হয়, মাধ্যাকর্ষণ শক্তি যেন এখানে কাজ করে না। এই হল ঘরটি বিশ্বের বৃহত্তম ভল্ট চেম্বার হিসেবে বিখ্যাত। বড়া ইমামবরার রহস্যময় জ্যামিতিক স্থাপত্যের সমাধান করা আজও সমাধান হয়নি।

​লাদাখে ইটির বাসা

ei samay

লাদাখের আরেকটি রহস্যজনক স্থান হল কোঙ্কা লা পাস। এখানকার আকাশে নাকি প্রায়ই রহস্যজনক আলো দেখা যায়। স্থানীয়দের বিশ্বাস সেগুলি অন্য গ্রহের মহাকাশযান। অনেকেই মনে করেন যে কোঙ্কা লা পাসে ভিনগ্রহের প্রাণীরা থাকেন। ওই স্থানে লোকজনের যাতায়াত নেই বললেই চলে। আসলে সমপদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় সতেরো হাজার ফিট উঁচু এই স্থানটি ভারত-চিন সীমান্ত। স্থানটি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে টানাপোড়েনও রয়েছে যথেষ্ট। সাধারণ মানুষের এই স্থানে যাওয়া নিষিদ্ধ করতেই এধরনের গল্প রটানো হয়েছে বলে দাবি যুক্তিবাদীদের। যুক্তি যাই বলুক না কেন কিংবদন্তির আকর্ষণে সংলগ্ন এলাকায় পর্যটকরা আকছাড় ভিড় জমান।

​বুলেট বাবার মন্দির

ei samay

বুলেট বাবা। হিন্দু পুরাণে এই ভগবানের নাম যদিও নেই, কিন্তু তাতে তাঁর প্রতি ভক্তি কোনোদিন কম হয়নি। রাজস্থানের বুলেট বাবার মন্দির বর্তমানে রীতিমতো আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন স্থান। একটি মোটোর সাইকেলকে দেবমূর্তি হিসেবে পুজো করা হয় এই মন্দিরে। এই দেবতা নাকি পথিকদের দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা করেন। ভক্তদের বিশ্বাস, মন্দিরে মোটোর সাইকেলরূপী বুলেট বাবার পুজো দিলে পথ দুর্ঘটনা থেকে তাঁরা রক্ষা পাবেন। কথিত আছে, ওম সিং রাঠোর বা ওম বান্না নামে এক ব্যক্তি নিজের বুলেট চালিয়ে বাড়ি ফেরার সময় ভয়াবহ এক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে প্রাণ হারান। ঘটনাস্থল থেকে বুলেটটি উদ্ধার করে পুলিশ। কিন্তু রহস্যজনকভাবে পুলিশ স্টেশন থেকে বাইকটি উধাও হয়ে যায়। বাইকে কোনও জ্বালানি ছিল না। এমনকি সেটি শিকল দিয়ে বাঁধা থাকা সত্ত্বেও বাইক কীভাবে উধাও হয়েছিল সেই রহস্যের সমাধান আজও সম্ভব হয়নি। পুলিশ স্টেশন থেকে নাকি কোনও এক অদৃশ্য ব্যক্তি বাইকটিকে ফের সেই দুর্ঘটনাগ্রস্ত স্থানে নিয়ে চলে এসেছিলেন। প্রতিবারই বাইক পুলিশে স্টেশনে আনা হয় আর প্রতিবারই নাকি বাইক পৌঁছে যায় দুর্ঘটনার স্থানে। অবশেষে সেই দুর্ঘটনার স্থানেই একটি মন্দির স্থাপন করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সকলের বিশ্বাস হয় যে, পথিকদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিজের হাতে তুলে নিয়েছেন বুলেট বাবা। ভগবানকে চাক্ষুস করা না গেলেও তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে বুলেটটি পুজো পেয়ে চলেছে বছরের পর বছর। এই পুজো দিলে সত্যিই কি পথ দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব? কে জানে।

We wish to say thanks to the author of this post for this incredible web content

আমাদের দেশের এই রহস্যময় স্থানগুলির কাছে বারমুডা ট্রায়াঙ্গল একেবারে তুচ্ছ!

Wyomingnetworknews.com