বেস্ট ফ্রেন্ডকে প্রোপোজ করতে হিমশিম খাচ্ছেন? জানুন সহজ পথ

হাইলাইটস

  • প্রিয় বন্ধু বা বান্ধবীর প্রেমে পড়াটা খুব স্বাভাবিক ঘটনা।
  • এক্ষেত্রে দুজন দুজনকে খুব ভালো করে বোঝেন।
  • একে অপরের পছন্দ অপছন্দকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করেন।

এই সময় জীবনযাপন ডেস্ক: ‘এক লড়কা অর এক লড়কি কভি দোস্ত নেহি বন সাকতে।’
সেই নয়ের দশকে এই মোক্ষম সংলাপটি বলেছিলেন অভিনেতা মণীশ বহেল। ছবির নাম ‘ম্যায়নে পেয়ার কিয়া’। সুপারহিট ছবির এই সংলাপটি রীতিমতো ‘কিংবদন্তি’তে পরিণত হয়েছে। আজও লোকের মুখে মুখে ঘোরে এটি। পরে ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’ কিংবা ‘দিল তো পাগল হ্যায়’-র মাধ্যমে সংলাপটিকে ভুল প্রমাণ করা চেষ্টা শুরু হলেও তা ধোপে টেকেনি। সিনেমার শেষে বেস্ট ফ্রেন্ডরাই (Best Friend) একে অপরের প্রেমে পড়ে বিয়ে থা করে সংসার পাতে।

বাস্তবেও এরকম ঘটনার উদাহরণ রয়েছে ভূরি ভূরি। আসলে প্রিয় বন্ধু বা বান্ধবীর সঙ্গে সময় কাটাতে কাটাতে যখন তা অভ্যাসে পরিণত হয় তখন তার প্রেমে পড়ে যাওয়াটা খুব স্বাভাবিক। কখনও সেটা দুই তরফে হয় আবার কখনও তা হয় শুধুমাত্র এক তরফে। দুই তরফে প্রেম হলে কোনও সমস্যা নেই। কিন্তু প্রেম যদি হয় এক তরফা তখনই হয় বিপদ। প্রিয় বন্ধু বা বান্ধবী যদি প্রেম প্রত্যাখ্যান করে তাহলে তো বন্ধুত্বও নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এই ভয় মনে সর্বদা আনাগোনা করে। ফলে বলব বলব করেও বলা হয়ে ওঠে না মনের কথা। আর সেই না বলা কথা মনকে কুড়ে কুড়ে খায়।

মনোবিদরা বলেন, প্রিয় বন্ধু বা বান্ধবীর প্রেমে পড়াটা খুব স্বাভাবিক ঘটনা। এক্ষেত্রে দুজন দুজনকে খুব ভালো করে বোঝেন। একে অপরের পছন্দ অপছন্দকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করেন। কারও প্রতি কারও কোনও ক্ষোভ বা রাগ বেশিদিন টেকে না। ঝগড়া, ভাব, আড়ি, খুনসুটি, আড্ডা, মজা, আনন্দ সবই চলে স্বাভাবিক গতিতে। দুজন দুজনের সমস্যা, গোপন কথা, দুর্বলতা, শক্তি সবই জানেন। আর ভালো খারাপ মিলিয়ে মিশিয়েই তাঁরা একে অপরের বেস্টি। আর সেক্ষেত্রে প্রেম আসতেই পারে।

আপনি নিজেও যদি বেস্ট ফ্রেন্ডের (Best Friend) প্রেমে পড়ে থাকেন এবং তাঁকে কীভাবে প্রোপোজ করবেন বলে কূল কিনারা করতে পারছেন না, তাহলে আমরা একটু সাহায্য করতে পারি।

বন্ধুকে একটু আভাস দিন
হতেই পারে প্রিয় বন্ধুকে প্রোপোজ করতে আপনার কুণ্ঠা হচ্ছে। কী হয় কী হয় ভাবটা মন থেকে যেতেই চাইছে না। অথচ ভালো যখন বেসে ফেলেছেন তখন তাকে না বলেও যে উপায় নেই। তাহলে বলব পদক্ষেপগুলো ধীরে ধীরে নিন। তাড়াহুড়ো করলে হিতে বিপরীত হতে পারে। প্রিয় বন্ধুকে কয়েকটি আভাস দিন। মাঝে মধ্যে তার সঙ্গে হালকা ফ্লার্ট করুন। বন্ধুর প্রতি অতিরিক্ত যত্ন দেখানো শুরু করুন। কিন্তু তা বলে মাত্রা ছাড়াবেন না। এভাবে বেশ কিছু দিন চালান। দেখবেন ধীরে ধীরে বেস্ট ফ্রেন্ড আঁচ করতে পারছেন। আর যেহেতু বন্ধু হিসেবে তিনি আপনাকে পছন্দ করেন তখন প্রেমিক বা প্রেমিকা হিসেবেও আপনাকে ধীরে ধীরে পছন্দ করতে শুরু করে দেবেন। কিংবা হয়তো দেখা গেল তিনিও আপনার কাছে এই ব্যবহারটাই চাইছিলেন। কিন্তু মুখ ফুটে বলতে পারছিলেন না। মোটামুটি গ্রিন সিগন্যাল দেখলেই প্রোপোজ করে ফেলুন। ঠকবেন না।

প্রিয় জায়গায় দেখা করে মনের কথা বলুন
দুজন দুজনের প্রিয় বন্ধু যখন, তখন নিশ্চয়ই দুজনের পছন্দ খানিকটা মেলে। বিশেষ করে কোনও জায়গার ক্ষেত্রে। তা সে রেস্তোরাঁ হতে পারে, কিংবা কোনও পার্ক। কিংবা নিদেন পক্ষে বাড়ির ছাদ বা ব্যালকনি। তবে স্থানটি একটু নিরিবিলি হলেই ভালো হয়। বন্ধুকে প্রোপোজ করতে চাইলে এই সব জায়গাতে যান। তাকে সরাসরি মনের কথা বলুন। তাই বলেই শুরুতেই ‘ভালোবাসি’ বলে ফেলবেন না। তার চেয়ে প্রথম কবে একসঙ্গে সেখানে গিয়েছিলেন, কী খেয়েছিলেন বা কী করছিলেন সেসব নিয়ে আলোচনা করুন। কথায় কথায় দেখবেন প্রেম নিবেদন করার সুযোগ এসে গেছে। ব্যস্ আর দেরি নয়। বলে ফেলুন আসল কথাটি।

উপহার এবং চিঠি
উপহার কিংবা চিঠি দিয়ে প্রেম নিবেদন সেই বহু যুগ আগের কৌশল। কিন্তু বিশ্বাস করুন সেই কৌশল আজও একই রকম কাজ করে। বন্ধুর পছন্দের জিনিসের সঙ্গে ছোট্টো একটা প্রেম পত্র যদি তাকে উপহার দিতে পারেন তাহলে জেনে রাখবেন ইতিহাসে আপনার নাম অমর হয়ে থাকবে। মানে আপনাদের জীবনের ইতিহাসে। অতিবড় টেকনিক্যাল মানুষও প্রেমপত্র ভালোবাসেন। এটি সনাতন সত্য। তবে বেশি কবিত্ব না করে ছোট্টো করে মনের কথা লিখুন। চিঠির উত্তর চান। বন্ধুও যদি প্রেমিক বা প্রেমিকা হিসেবে আপনাকে পছন্দ করেন তাহলে উত্তর আসবেই।

মাঝরাতে ফোন
বেস্টিকে প্রোপোজ করার সংকল্প যখন করেই ফেলেছেন তখন তার ভিত তৈরি করুন। রাতের বেলা তাকে নানা রকম মেসেজ করতে শুরু করুন। সাধারণ কথা দিয়েই শুরু করবেন। সারাটা দিন কেমন গেল, কী খেয়েছে, আপনার দিন কেমন কাটল এই সব কথা বলুন। দেখবেন কয়েকদিনের মধ্যেই এটা দুজনের অভ্যাসে দাঁড়িয়ে যাবে। আপনি মেসেজ না করলেও তিনি মেসেজ করা শুরু করবেন। আর তা করলে আপনিই কিছুদিন চালিয়ে যান। এরপর একদিন হঠাৎ গভীর রাতে ফোন করুন। বলে ফেলুন যে তার কথা মনে পড়ছে বারবার। তাই এই ফোন কল। দেখবেন প্রেম নিবেদনের সুযোগ পেয়ে গেছেন। এবং এসব কৌশল কখনও ফেল করে না।

তবে হ্যাঁ, এসমস্ত কৌশল প্রয়োগ করার আগে বন্ধু অন্য কারও সঙ্গে সম্পর্কে রয়েছেন কিনা ভালো করে খোঁজ নিয়ে নেবেন। সব জানার পর একান্তই যদি প্রেম নিবেদনের ইচ্ছে থাকে তাহলে কখনওই ইতিবাচক প্রত্যুত্তর আশা করবেন না। আর চেষ্টা করুন তিনি প্রেম প্রত্যাখ্যান করলেও অন্তত আপনার তরফে যেন সম্পর্কে আগের মতোই থাকে। বন্ধুকে জোর জবরদস্তি তো কোনোভাবেই করবেন না। নিজের প্রতি সৎ থাকুন। নিজেদের বন্ধুত্বের প্রতিও সৎ থাকুন।

ছবি সৌজন্যে: পিক্সেলস

We want to say thanks to the writer of this article for this incredible material

বেস্ট ফ্রেন্ডকে প্রোপোজ করতে হিমশিম খাচ্ছেন? জানুন সহজ পথ

Wyomingnetworknews.com